
নীতার শাড়ির জামেওয়ার কাজটুকুই করতে ১,৯০০ ঘণ্টা সময় লেগেছে বলে জানান ডিজাইনার তরুণ
ভারতীয় ধনকুবের মুকেশ অম্বানী ও তার স্ত্রী নীতা অম্বানী আমন্ত্রিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নৈশভোজের আসরে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হওয়ার সুবাদে দুনিয়ার বহু খ্যাতনামা ব্যক্তিদেরই ডিনারে ডেকেছিলেন ট্রাম্প। সঙ্গী অথবা সঙ্গিনীদের নিয়ে তারা হাজিরও হয়েছিলেন ওয়াশিংটনে। প্রেসিডেন্টের অতিথি বলে কথা! নৈশভোজের জন্য সেরা পোশাকটি বেছে নিয়েছিলেন সকলেই। অধিকাংশ নারী ও পুরুষের পরনেই ছিল পশ্চিমা কেতার পোশাক। তবে নীতা আম্বানি সেখানে গিয়েছিলেন শাড়ি পরে। সেই শাড়িও যেমন-তেমন নয়, খাঁটি কাশ্মীরি জামেওয়ার কারুকাজের শাড়ি! সে শাড়ির দাম কোটিতে হলেও আশ্চর্যের কিছু নেই। খবর ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের।
জামেওয়ার কাশ্মীরের এক প্রকার সূচিকর্মের নাম। যার জন্ম পারস্যে। সেখান থেকেই প্রায় ৫০০ বছর আগে কাশ্মীরে এসেছিল জামেওয়ারের সূচিশিল্প। সূক্ষ্ম সুতোর ওই বুননে নিখুঁত কাজে বাহার যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে আভিজাত্য। মোঘল আমলে জামেওয়ারের বিস্তার। শোনা যায়, সম্রাট আকবরের পৃষ্ঠপোষকতায় কাশ্মীরের দক্ষতম সীবনশিল্পীরা জামেওয়ার তৈরি করায় মন দিয়েছিলেন। খাঁটি জামেওয়ার তৈরি করা হয় পশমি শাল অথবা রেশমের ওপর। কিন্তু সমস্যা হলো, এক-একটি শাল বুনতেও বছরের পর বছর কেটে যায়। এমন বহু জামেওয়ারের কাজ হয়েছে, যা শেষ হতে দশক পেরিয়েছে। হয়তো দেখা গিয়েছে, যিনি শুরু করেছিলেন, তিনি শেষ করতে পারেননি। তার পরবর্তী প্রজন্ম সেই কাজ শেষ করেছে। সেই বিপুল সময় আর সেই নিখুঁত কাজের দামেই বরাবর মহার্ঘ হয়েছে জামেওয়ার। যা একমাত্র রাজপুরুষ কিংবা খানদানি পরিবারের মানুষজনই কেনার সামর্থ্য রয়েছে। তাদেরই কাঁধের শোভা বৃদ্ধি করত কাশ্মীরের এই সূচিশিল্প।
No comments:
Post a Comment